মানিকগঞ্জের ঘিওরে ছাগলের ঘাস খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তসত্তা এক নারী ও তার মাকে বেধড়ক পিটিয়েছে প্রতিবেশি এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। আহত অবস্থায় তাদের ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নতুন বালুচর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আজ বুধবার সকালে এ ঘটনায় চারজনকে আসামী করে ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী রুপ কুমার দাশ। মামলার আসামি আ. রাজ্জাক , তার স্ত্রী শাহানা আক্তার, ছেলে রাজ ও প্রতিবেশী শেফালী দত্ত। অভিযুক্ত রাজ্জাক প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ঘিওর থানা পুলিশ অভিযুক্ত রাজ্জাকের স্ত্রী শাহানা আক্তারকে আটক করেছেন।
মারধরের ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভেসে বেড়াচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে আব্দুর রাজ্জাক ওই নারীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারছেন। স্থানীয় কয়েকজন ফেরানোর চেষ্টা করছে। ওই নারী বাঁচার জন্য চিৎকার করে কান্না করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের আলু ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাকের বাড়ির পাশে উন্নত জাতের ঘাস রোপন করা একটি জমিতে প্রতিবেশী রুপ দাশের স্ত্রী কবিতা দাশের একটি ছাগল প্রবেশ করে ঘাস খায়।
কবিতা দাশ ছাগল আনতে গেলে জমির মালিক আঃ রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে এলাপাথারী মারতে থাকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কবিতা।
খবর পেয়ে কবিতার মেয়ে অনামিকা (৫ মাসের অন্ত:স্বত্তা) এগিয়ে এসে তার মাকে উদ্ধার করতে গেলে রাজ্জাক তাকেও লাথি মেরে ফেলে দেয়। আশেপাশের প্রতিবেশীরা এসে মা মেয়েকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অন্তঃসত্ত্বা অনামিকা (১৯) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই বাড়ি গেছেন। তার মা কবিতা দাশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। তার একটি হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে।
ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উভয় পক্ষের মারামারি ঘটনায় জড়িত। সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। অমানবিক এ ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুন, তাদের শান্তি চাই।
এ ব্যাপারে রাজ্জাকের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। গোলাপনগর তার গ্রামের বাড়িতে এবং ঘিওর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘিওর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় চার জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহানা আক্তার কে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় আশা কুটির, ১০০ ফিট রোড,
ভাটারা নতুন বাজার, গুলশান-২ / আঞ্চলিক কার্যালয়, পুখরিয়া, ঘিওর, মানিকগঞ্জ।
হেল্প লাইনঃ 01721608002/01715-487442
www.desh24tv.com