সুরেশ চন্দ্র রায় মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি(কাবিখা) প্রকল্পের একটি পুরাতন রাস্তা পুনঃনির্মাণের নাম ভাঙিয়ে উথলী-কাতরাসিন এলাকার ইছামতি নদী থেকে মাটি বিক্রি করে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উথলী ইউপি সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিশেষ কোটায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় উথলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ওই অর্থবছরে প্রকল্পের কাজ আংশিক করে বন্ধ রাখা হয়। চলতিবছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মো. আব্দুর রহিম মিয়াকে প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, উথলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান রাস্তা নির্মাণের জন্য পাশের ইছামতি নদী থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি রাস্তা আংশিক কাজ করে করে আশেপাশে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এই নদীরই অপর প্রান্ত থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন। কাতরাশিন এলাকার তারা মসজিদ সংলগ্ন ইছামতি নদীর দুই প্রান্তে দুইটি ভেকু বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন তারা। এতে আশেপাশের কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে ঝুঁকিতে।
উথলী ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক খান বলেন, ইছামতি নদীতে ২০২২ সালে নদী খনন প্রকল্পে কাজ করার সময় তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে চাঁদা তুলে নদীতে যাওয়ার রাস্তায় মাটি ভরাট করে একটি সড়ক তৈরি করা হয়। কিন্তু গত বছর মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করে ফেলেন। এবছরও রাস্তায় মাটি ফেলার আশ্বাস দিয়ে তিনি রাতের আঁধারে নদী থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন এবং উথলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্বাসের নেতৃত্বে মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। নদী থেকে মাটি কাটার সময় মেম্বার এলাকাবাসিকে বলছেন, তিনি নদীতে গোসল করার ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তিনি এখান থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। ফলে, আবাদি জমিসহ বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়ছে।
ইউপি সদস্য মান্নান মেম্বার জানান, আব্বাস চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার প্রকল্পের রাস্তায় নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে, অন্য কোথাও তিনি মাটি বিক্রি করেননি বলে দাবি তার। বাড়াদিয়া থেকে উথলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীর কোথাও পানি নেই। তাই গোসল করার জন্য ওই জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া তিনি এবিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না।
যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন জানান, মাটি কাটার বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না।
উথলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস আলী বলেন, তিনি মাটি কাটা বা বিক্রির সাথে জড়িত নন। তাঁর প্রকল্পের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ইছামতি নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে কাজটি কাতরাশিন এলাকায় করার কথা ছিল তা মাটির অভাবে করা সম্ভব হয়নি। চলতিবছর ওই কাজ মাটি কিনে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এই কাজে নদী থেকে মাটি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রথমত, নদী থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। তাদেরকে নদী থেকে মাটি কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। সরকারি প্রকল্পের কাজ করার জন্য সরকার থেকে একটি বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটার কোন সুযোগ নাই। খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় আশা কুটির, ১০০ ফিট রোড,
ভাটারা নতুন বাজার, গুলশান-২ / আঞ্চলিক কার্যালয়, পুখরিয়া, ঘিওর, মানিকগঞ্জ।
হেল্প লাইনঃ 01721608002/01715-487442
www.desh24tv.com