আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
এক থেকে দুদিন পরে ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার লোকজনের যাতায়াতের অন্যতম নৌপথ হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা কাজির-হাট নৌপথ। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাটে সকাল থেকেই বাড়ছে যাত্রী। তবে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও নেই ভোগান্তি। কখনো যাত্রীর দেখা মিললেও আবার কখনো ঘাট পুরোটাই ফাঁকা। এছাড়াও পর্যাপ্ত ফেরি ও লঞ্চ থাকার কারণে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে। যাত্রীর অপেক্ষায় ফেরি।
শনিবার (২৯ মার্চ) বিকেলের দিকে যাত্রী এবং যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে পাটুরিয়া এলাকায় কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঘাট পার হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন। কয়েক বছর আগেও যেখানে ফেরির অপেক্ষায় থাকতো হাজারও যাত্রী, এবারের ঈদযাত্রায় যানবাহনের জন্য ফেরিকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপার করতে ২৩টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ৬০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমে যায়।
নদীতে নাব্যতা সঙ্কটের কারনে ফেরি চলাচলে সময় বেশী লাগছে। ঘাটে দূরপাল্লার বাস কম পারাপার হলেও ছোট গাড়ি, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে একটু বেশি।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটটি দেশের অন্যতম নৌরুট। যেখানে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার যানবাহন এবং কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। তবে, এবারের ঈদ যাত্রায় এর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ২৩টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পার করছেন।
আশুলিয়া থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী রিনা আক্তার জানান, মহাসড়কে ছোট ও বড় গাড়ির প্রচুর চাপ ছিল। খুব সকালে পরিবারকে সাথে নিয়ে রওনা দিয়েছি। বাসে ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা করে বেশি নিয়েছে কিন্তু পাটুরিয়া ঘাটে ভোগান্তি ছাড়াই ঘাট পার হচ্ছি।
ঢাকার বংশালে কর্মরত ব্যাংক কর্মকর্তা মাজহারুল আমিন বলেন, প্রতিবারের মতো এই পথ দিয়েই বাগেরহাট যাচ্ছি। মহাসড়কে কাটা পথের যাত্রী বেশি। আগের মত দুরপাল্লার গাড়ি কম থাকায় ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। এখন ফেরি যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে।
দূরপাল্লার কোচ চালক আসলাম মিয়া বলেন, আগে যেমন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো এখন এত সময় অপেক্ষা করতে হয় না। চাপ বাড়লেও সিরিয়াল অনুযায়ী বাস পারাপার করা হচ্ছে তাই আগের মতো ভোগান্তি নেই। তবে, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন বেশি থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। ঈদের সময় এসব যানবাহন প্রশাসন বন্ধ করে দিলে ভালো হয়।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের এজিএম আব্দুস সালাম বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ৪০ শতাংশ যানবাহন কমে গেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে। ফলে গত কয়েক বছর ধরে ঈদে যানবাহনের বাড়তি চাপ নেই। তবে ঈদের দু’একদিন আগে যানবাহন এবং যাত্রীর চাপ বাড়লেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ফেরি থাকায় ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের। এবার ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ১৭টি এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ৬টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করছে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন বলেন, মহাসড়ক এলাকায় কেউ যেন চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত মূল্যে যানবাহন ও নৌযানের টিকিট বিক্রি করতে না পারে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো যানবাহন যেন নৌপথ এবং সড়কপথে চলাচল করতে না পারে এর জন্য পুলিশের সদস্যরা সাদাপোশাকে মাঠে রয়েছে। ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় আশা কুটির, ১০০ ফিট রোড,
ভাটারা নতুন বাজার, গুলশান-২ / আঞ্চলিক কার্যালয়, পুখরিয়া, ঘিওর, মানিকগঞ্জ।
হেল্প লাইনঃ 01721608002/01715-487442
www.desh24tv.com