মোঃশরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
নদীভাঙন, বাস্তুচ্যুতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় জর্জরিত মানিকগঞ্জ-১ আসনের মানুষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ্ কবিরকে জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান।
বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ এই জনপদের সমস্যা মোকাবিলায় তাকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৪৮ ভোটারের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট।
ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক বলেন, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। তিনি বলেন, এস এ জিন্নাহ্ কবির দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন। তাকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টার বলেন, এস এ জিন্নাহ কবির একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে সম্পৃক্ত থেকেছেন। নদীভাঙন প্রতিরোধ ও এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীভাঙনই এই আসনের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘদিনের সমস্যা। শিবালয় উপজেলার নদীপাড়ের মোঃবারেক মিয়া বলেন, নদীভাঙনের সময় তারা ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছেন। তাঁর মতে, জিন্নাহ্ কবির সেই সময় তাদের খোঁজ নিয়েছেন বলেই মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে। তিনি মন্ত্রী হলে নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে—এমন আশা তাদের।
ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন ভুঁইয়া বলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে। তাঁর মতে, এস এ জিন্নাহ কবির জাতীয় পর্যায়ে এই অঞ্চলের সমস্যা তুলে ধরতে এবং কার্যকর উদ্যোগ নিতে সক্ষম একজন নেতা।
মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দীপ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জিন্নাহ কবির নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে তাঁর জয় এলাকার মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সুমন দেওয়ান সাকিব বলেন, নদীভাঙনের সময় জিন্নাহ্ কবিরকে এলাকাবাসী সবসময় পাশে পেয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষ শুধু ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায়। জিন্নাহ কবির মন্ত্রী হলে নদীভাঙন রোধে পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের বাসিন্দারা এখন বিএনপি হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, নদীভাঙনপ্রবণ এই জনপদের একজন প্রতিনিধিকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী ভূমিকায় দেখা যাবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয় আশা কুটির, ১০০ ফিট রোড,
ভাটারা নতুন বাজার, গুলশান-২ / আঞ্চলিক কার্যালয়, পুখরিয়া, ঘিওর, মানিকগঞ্জ।
হেল্প লাইনঃ 01721608002/01715-487442
www.desh24tv.com