আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
“বন মানে শুধু গাছ না, বন মানে সমস্ত প্রাণ” এ শ্লোগানে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বনসৃজন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার কাউটিয়া গ্রামে প্রাণ বৈচিত্র্য খামারে হাতে কলমে শেখার দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র। এতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কয়েক শত ব্যক্তি অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রর পরিচালক দেলোয়ার জাহান। গৃহস্থ বন, গেরিলা বন, ঝোপবন, প্রাকৃতিক বন, খাদ্য বন, মিওয়াকি ফরেস্ট পদ্ধতি, পার্মাকালচার পদ্ধতি ছাড়াও উদ্ভিদ ও মাটি ব্যবস্থাপনা, আদি বন সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সভা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, দেশের প্রখ্যাত ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি খোন্দকার হাসিবুল কবির, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, রোটারী ক্লাব অফ ইকো ঢাকা’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম শামীম, পরিবেশবাদী কর্মী শাহিন শিরীন, শিশুর জন্য ভালবাসা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফনান শীলা, গবেষক ইফতেখার আলী, কৃষক কালাচাঁদ প্রমুখ।
পরে কাউটিয়া গ্রামের তিনশ বছরের প্রাচীণ বটবৃক্ষের নিচে বৈশাখী ফল উৎসব, বাংলার আদি অতিহ্য খাবার পরিবেশন ও মনোমুগ্ধকর সাংষ্কৃতি অনুষ্ঠান হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীদের সাথে গান পরিবেশ করেন দেশের প্রতিথযশা কন্ঠশিল্পী কুয়াশা মুর্খ্য।
প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রর পরিচালক দেলোয়ার জাহান বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রাচীন গৃহস্থ বাড়িতে একটা করে জঙ্গল থাকতো একটা করে বন থাকতো এবং সেটা তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজে আসতো। এটি কমে যাবার ফলে পরিবেশগত নানা সমস্যা আসছে। বন মানে শুধু গাছ না, বন মানে সমস্ত প্রাণ। যেহেতু বাংলাদেশে জমি কম আমরা শুধু ওয়াইল্ড বনের জন্য করবো না। কিন্তু এমন বন করে তুলব যেখানে বাসস্থান ঠিক রাখবে, মানুষের জন্য খাদ্য উৎপন্ন করবে; সেজন্য আমাদের খাদ্য বন আছে, ফুড ফরেস্টের কনসেপ্টে আছে, আমরা সেটাও কর্মশালায় হাতে কলমে শেখানো হয়েছে। শুধু গ্রামে না, শহরেও ছোট ছোট জায়গায় বন সৃজন করা যায়। তিনি আরো বলেন বনসৃজন নিয়ে এটিই দেশের প্রথম কর্মশালা ও প্রশিক্ষন