August 3, 2026, 6:15 am
শিরোনামঃ
আশা শিক্ষা কর্মসূচি হতে প্রাথমিকে বৃত্তি পেলেন আব্দুল্লাহ উমার মানিকগঞ্জে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চকমিরপুর, শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী গাইডলাইন সেশন সুশাসন ও আধুনিক নগর গড়ার প্রত্যয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মাসুদ পারভেজ নারায়ণগঞ্জে ৭০ বছর দখলে থাকা জমি জোরকরে বে-দখলের অপচেষ্টা। মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পেলেন এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহেল রানা খন্দকার এমপি এস. এ. জিন্নাহ কবির–এর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পেলেন টিপু সুলতান মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপু জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপুর নাম দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে দায়িত্বে দেখতে চান অনেকেই মানবতার ফেরিওয়ালা মোজাম্মেল মোল্লার উদ্যোগে শিবালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানি

বৃষ্টির জন্য শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ প্রার্থনা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

আল্লাহ মেঘ দে পানি দে/ ছায়া দেরে তুই আল্লাহ — আব্বাস উদ্দীনের গানের এই সুর ধরে এমন কিছু গান গেয়ে গ্রামের শিশু ও প্রবীণ নারী পুরুষরা বৃষ্টির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ২ টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের ঘিওরে ফসলের মাঠে বৃষ্টি আশায় এলাকাবাসী আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছেন। এরপর শিশু-কিশোররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেচে গেয়ে পানি ছিটিয়ে চাল-ডালও সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যার পর সেই চাল ডাল দিয়ে তৈরি শিরনী বিতরন করা হয় গ্রামবাসীর মাঝে।

বাঙালির অতি প্রাচীন এই সংস্কৃতির সরজমিন দেখা মিলেছে উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাষ্টিয়া ( পুরান গ্রামে)। বাষ্টিয়া, গুবিন্দী ও পুরান গ্রামবাসী এ প্রার্থনার আয়োজন করে। দুপুরের তপ্ত রোদে শত বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী কাঁদা মাখিয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা হয়। নিচু এক ফসলের মাঠে পানি ছিটিয়ে কর্দমাক্ত করা হয়েছে। সেই কাদায় পেঁতা হয়েছে চারটি কলা গাছ; মাঝে মাটির ছোট একটি কলস। তার চারপাশে হাুঁটু গেড়ে সারা শরীরে কাঁদা মাখিয়ে মাটি চাপরে আর দু হাত আকাশ পানে তুলে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করছেন। এতে অংশ নেয় সীমান্ত, আলমাস, লিমন, ইমরান, সুমাইয়াসহ বেশ কয়েকজন শিশু। পাশে বসা গাঁয়ের কয়েকজন প্রবীণ নারী -পুরুষ তাদের ওপর পানি চিটাচ্ছেন এবং দল বেঁধে গাইছেন আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই আল্লা। এরপর গাঁয়ের প্রবীণরা একসাথে বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত করেন।

পুরান গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ আমছের আলী (৮৫) বলেন, গরমে জনজীবন শেষ। অনেক দিন বৃষ্টি হয় না। পূর্ব পুরুষদের রীতি অনুযায়ী বৃষ্টির জন্য এই প্রার্থনা করা হয়।

গুবিন্দী গ্রামের আমেজা বেগম (৭০) ও রেনু বেগম (৬৫) বলেন, ছোট বেলঅ থেকেই দেখে আসছি বৃষ্টির জন্য কাদা মাখিয়ে আল্লার কাছে বৃষ্টি চাইছি। আগে জিকির হইতো, শিন্নী হইতো। আজকালের মানুষ এখন আর এগুলো মানতে চায় না।

বাষ্টিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ রীতি আমাদের গ্রামে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

জেলা কৃষক সমিতির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলায় এই দাবদাহ আর অনাবৃষ্টি ফসলের মাঠ হয়ে উঠে বিবর্ণ। সব জলাশয় শুকিয়ে যায়। দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি আর তাপদাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির জন্য জিকির-আসকার, ইসতিসকার নামাজ, শিন্নী বিতরন, কাদা মাখানো, মেঘ পূজা, হুদমা গান, তালতলার শিন্নি, ব্যাঙের বিয়েসহ নানা আচার পালন করতো। এমনও দেখা গেছে এসব আচার অনুষ্ঠান পালনের সময়ই ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি নামতো। কিন্তু কাল পরিক্রমার তা আজ বিলুপ্তির পথে।

ঘিওর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির দেখা না পেলে বাংলার বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বৃষ্টির জন্য আদি সংস্কৃতি ও লোক সংস্কৃতি অনুযায়ী নানা নিয়মাচার ও লোকাচার পালন করত। কালের পরিক্রমায় বৃষ্টির জন্য বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সেই সমৃদ্ধ অধ্যায়টি আজ এক প্রকার বিলুপ্তই বলে চলে। কিছু কিছু আচার এখনো পালিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা