মোঃ শরিফুল ইসলাম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস.এ. জিন্নাহ্ কবির বলেছেন, “বিএনপির জনপ্রিয়তা রুখতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ সব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের আরও সংগঠিত ও সচেতন হতে হবে।”
শনিবার (১৭ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিএনপির ৩১ দফা প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভাটি একসময় বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
জিন্নাহ্ কবির বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি দেশের কৃষি, গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য একটি সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা। এই দফাগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “যারা উন্নয়নের নামে কৃষিজমির মাটি কেটে কৃষকদের জমি নষ্ট করছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। কৃষিই দেশের ভিত্তি। এই মাটিই আমাদের খাদ্য দেয়, জীবিকা দেয়—এই জমি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। বিএনপির কৃষি নীতি কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি বাস্তবসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য পরিকল্পনা।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি জনমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। দেশের মানুষ আজ যে প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ গণচেতনার উন্মেষ। একত্রিত হয়ে, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে, তাদের দাবির প্রতিধ্বনি তুলে ধরতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজা মিয়া, বানিয়াজুরী যুবদলের সভাপতি মোঃ সুজন প্রমুখ।
নেতারা বলেন, বিএনপির ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়—এটি একটি সময়োপযোগী রূপরেখা, যার মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। জনগণের কাছে এই কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
সভা শেষে স্থানীয় নেতারা দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দেন। এছাড়াও কৃষক, শ্রমজীবী ও তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।