এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্লাষ্টিকের ময়লা ডাষ্টবিনের পাশে বাঁশ পুঁতে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেও সড়কে যত্র তত্র ময়লা, আবর্জনা ছিটানো ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত গরু, ছাগল, ভেড়া এসে ডাষ্টবিনে মুখ দিয়ে সড়কের উপর উল্টে ফেলছে ডাষ্টবিন। অত:পর ডাষ্টবিনে ফেলা গেরস্থালি ময়লা আবর্জনা খাচ্ছে গৃহপালিত পশুর দল। এভাবে সড়কের উপর ছিটিয়ে ফেলা ময়লা আবর্জনা গোটা শহরকে অপরিচ্ছন্ন করে তুলছে। এতে নাক চেপে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে পথচারীরা।
এছাড়া শহরের মুদি ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের দেখা যাচ্ছে কিছুক্ষন পর পর গরু, ছাগল, ভেড়া তাড়াতে। নতুবা তাদের নিত্য পন্য সামগ্রী খেয়ে পেট ভরছে গরু, ছাগল, ভেড়ার দল। এমন চিত্র এখন পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে। দেশের দক্ষিন জনপদের প্রথম শ্রেনীর এ পৌরসভাকে নাগরিক সেবায় অনন্য, ষ্মার্ট পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল মেয়র, কাউন্সিলরদের। অথচ মুষ্টিমেয় ক’জন প্রভাবশালী গরু, ছাগল, ভেড়া মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না মেয়র, কাউন্সিলররা।
জানা যায়, পৌরশহরের ব্যবসায়ী সহ সাধারন নাগরিকরা গরু, ছাগল, ভেড়ার উপদ্রবে এখন অতিষ্ঠ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সহ অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ এ বিষয়ে বারংবার পৌরসভায় অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি গরু, ছাগলের উপদ্রব রোধে শহরে কয়েকবার মাইকিং করার পরও নাগরিকরা কোন সুুফল পায়নি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও অদ্যবধি দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ গরু, ছাগলের উপদ্রব রোধে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় ব্যবসায়ী সমিতির গৃহীত উদ্দোগ ভেস্তে গেছে।
কলাপাড়া পৌরশহরের এতিমখানা ৪ নং ওয়ার্ডের নাগরিক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাসার একটু কাছেই পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাষ্টবিন। আমরা প্রতিদিনের গেরস্থালি ময়লা, আবর্জনা ডাষ্টবিনে ফেলি। অথচ কসাই পট্রি এলাকার রশি ছেড়ে পালা কয়েকটি গরু, ছাগল এসে ডাষ্টবিন উল্টে সড়কের উপর ফেলে রাখে। একই ওয়ার্ডের গৃহবধূ উম্মে হাফসা বলেন, রাম ছাগলের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। ছাগল ঘরে ঢুকে ধান-চালের ড্রাম ভেঙ্গে ফেলায় ছাগল মালিক কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি।
কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, মুদি ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সমিতির উদ্দোগে গরু, ছাগলের উপদ্রব রোধে শহরে কয়েকবার মাইকিং করিয়েছি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সহায়তা না পাওয়ায় আমাদের উদ্দোগ ফলপ্রসু হয়নি।
কলাপাড়া পৌরসভার সচিব কাব্য লাল চক্রবর্ত্তী বলেন, নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে এ বিষয়ে আমরা কয়েকবার মাইকিং করিয়েছি। বর্তমানে মেয়র মহোদয় চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরে এলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
##
পানি শান্তি সৃস্টি করতে পারে আবার সংর্ঘষের জন্ম দিতে পারে পানি দিবসের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ পানি শান্তি সৃস্টি করতে পারে আবার সংর্ঘষের জন্ম দিতে পারে। পানির চাহিদার ভারসম্য রক্ষা, সুষম, ন্যায্য ও টেকসই ব্যবহার এর থেকে উত্তোরন ঘটাতে পারে। জনস্বাস্থ্য, সম্মৃদ্ধি, খাদ্য, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশের অখন্ডার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ন। আর্ন্তজাতিক পানি দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা এগারটায় পটুয়াখালীর পানি যাদুঘরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য উত্থাপন করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পানি যাদুঘরের সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন। আভাসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব ফোরাম সদস্যা মনিরা আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে বক্তারা দাবী করেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিনা লে ক্রমান্বয়ে লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ফসলের উপদান কমাচ্ছে। মানুষের জীবনকে সংকটময় করে তুলছে। এর থেকে পরিত্রানে দ্রুত সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা অরো দাবী করেন, বিধ্বস্ত বেরিবাঁধ মেরামত করতে হবে। চাষ সুবিধার জন্য ¯øইজ ও কালর্ভাটগুলির নিয়ন্ত্রন প্রকৃত কৃষকদের হাতে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসহ সামাজিক সংগঠনের প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলো।