মোঃশরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ১৪ নং বাষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহেবের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে দৌড়, লং জাম্প, উচ্চ লাফ, বল নিক্ষেপ, বিস্কুট দৌড়, মোরগ লড়াইসহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে এসব খেলায় অংশ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। সুস্থ দেহ ও মনের বিকাশে নিয়মিত খেলাধুলা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী করে গড়ে তুলতে এই ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত হওয়া উচিত, যাতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে এবং মানসিক বিকাশ লাভ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরা যদি ছোট থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে। ক্রীড়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে তাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “প্রতি বছর আমাদের বিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্পোর্টসম্যানশিপ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করব।”
ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। এছাড়াও, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয় এবং সবাই আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উপভোগ করে।