মোঃশরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ভোক্তাদের অসন্তোষ, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার অভিযোগ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার আলোচনা এ সময় নিয়মিত চিত্র হয়ে ওঠে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। রমজানের শুরু থেকেই বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয়, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় তার কার্যকর ভূমিকার ফলে সাধারণ মানুষ এবার স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। বাজারে যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য আগেভাগেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেখ বশির উদ্দিনের উদ্যোগের ফলে এবার রমজানের আগেই যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য মজুত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়নি। তিনি ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেন, যাতে কেউ অতি মুনাফার আশায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে।
শেখ বশির উদ্দিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তাদের সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করেছেন। রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্য আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে চাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, তার উদ্যোগে এবার রমজানের বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
রমজানের বাজার স্বাভাবিক থাকায় ভোক্তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ক্রেতারা বলছেন, এবার কোনো পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশ ব্যতিক্রম। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ বশির উদ্দিনের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এই স্বস্তি এসেছে, যা ভবিষ্যতেও বজায় থাকলে রমজান মাসে অযথা মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা কমে আসবে।
যদিও শেখ বশির উদ্দিন প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন, তার নিরব প্রচেষ্টা যে বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা স্পষ্ট। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং সুষ্ঠু নীতিমালার কারণে এবার রমজানের বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রমজানের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসবে।