আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওরে বিষক্রিয়ায় ইছামতি নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। এই মাছ সংগ্রহ করতে আশেপাশের গ্রামের কয়েক শত নারী পুরুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কুস্তা (পুরাতন গরুর হাট) এলাকায় ইছামতির শাখা নদীর পানিতে বড় বোয়াল, আড়ই, শোল, শরপুটি, গুলশাসহ ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি অনেক কমে গেছে। এই নদীর কুস্তা ও পুরাতন গরুহাট এলাকায় প্রায় অর্ধ কিলোমিটার অংশে কুম ( গভীর জলাশয়) পড়েছে। এই অংশে অনেক পানি। এখানেই ভেসে উঠছে অজস্র মাছ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, রাতের আঁধারে একটি চক্র নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরে বিক্রির চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিষক্রিয়া দেরি হওয়ায় এবং ভোরে লোকজনের আনাগোনা থাকায় ওই চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
তবে ঘিওর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি জেলা কার্যালয়ে প্রশিক্ষণে আছি। ঘটনাটি শুনেছি। এটি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাবে বিষক্রিয়া হতে পারে। অথবা কোন অসাধু চক্র বিষ প্রয়োগ করতে পারে। সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ঘিওর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিষে মরা মাছ রান্না করে খাওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক বিপুল বালো।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিন দেখা যায়, নদীতে মরে ভেসে ওঠা মাছ সংগ্রহ করছেন কয়েক শত নারী পুরুষ ও শিশু। তাদের সবার হাতেই ছোট বড় কয়েক কেজি করে মাছ।
ঘিওর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হারান হালদার জানান, খবর পেয়ে নদীতে জাল ফেলে দুটি বোয়াল, আইড় সহ নয় কেজি মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেছি।
গৃহবধূ আরতি বলেন, সকালে নদীতে স্মান করতে যাই। এসময় দেখি অনেক মাছ ভেসে উঠেছে। অনেক মানুষ তা ধরছে। আমি কয়েকটা বড় গুলশা মাছ ধরে নিয়ে আসছি।
বেপারী পাড়া গ্রামের রাহুল ও ছবুর খান বলেন, ভোরের দিকে নদীর পাড়ে হাঁটতে গিয়ে দেখি পানির ওপর মাছ বিছিয়ে রয়েছে। এত মাছ একসাথে আগে দেখিনি।
ঘিওর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।