মোঃ শরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় শিখা আক্তার (৩৫) নামের এক নারী তাঁর দুই সন্তান—আরাফাত ইসলাম আলভি (৯) ও সাইফা আক্তার (২) কে নিয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ একটি অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইট ট্যাবলেটের খালি কৌটা উদ্ধার করে। এটি সাধারণত ধানচাষে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, শিখা আক্তার তাঁর সন্তানদের বিষপান করিয়ে নিজেও বিষ পান করেন। মৃতদেহগুলো খাট ও মেঝেতে পড়ে ছিল।
একই ভবনের অপর ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেন বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেওয়ার জন্য শিখার বাসায় যাই। দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাইনি। ভেবেছিলাম, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিককে জানাই।
বাড়ির মালিক মুক্তাদির জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ৯৯৯-এ ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে পাশের ভবনের জানালা থেকে উঁকি দিয়ে দেখে যে তিনজনই নিথর হয়ে পড়ে আছে। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিখা আক্তার মালয়েশিয়াপ্রবাসী দেওয়ান শাহীন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী। শাহীন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামের আব্দুর রহমান দেওয়ানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শিখা আক্তারের ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভি ছিল তার প্রথম স্বামীর সন্তান। মেয়ে সাইফা আক্তার ছিল বর্তমান স্বামী শাহীন আহমেদের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসের ১৫ বা ১৬ তারিখে শিখা তাঁর স্বামী শাহীনকে নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরদিনই শাহীন মালয়েশিয়া ফিরে যান। এরপর শিখা বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান। চলতি সেপ্টেম্বরের ৭ বা ৮ তারিখে তিনি আবার সন্তানদের নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, শিখা আক্তার ও শাহীন আহমেদ দুজনেই ছিলেন একে অপরের দ্বিতীয় জীবনসঙ্গী। শিখার প্রথম সংসারের সন্তান ছিল আলভি। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করছি।
তিনি আরও জানান, মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক কলহ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, শিশুদের নিয়ে এভাবে একটি মা যদি জীবন শেষ করে ফেলেন, তাহলে তার ভেতরে কতটুকু যন্ত্রণা ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।