মোঃ শরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
ঘিওরের একটি কম্পিউটার দোকানে একজন ব্যবসায়ীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দোকানে ঢুকে দোকান মালিকের সঙ্গে অশোভন ও সহিংস আচরণ করছেন। ঘটনার নিন্দা জানাতে শুরু করে স্থানীয়রা, এবং সেই সঙ্গে ভিডিওতে থাকা অভিযুক্তকে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার চালানো হয়।
তবে ঘিওর উপজেলা বিএনপি এই প্রচারকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করে। দলটি এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে—এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কোনো ইউনিট বা অঙ্গসংগঠনের সদস্য নন।
ঘটনাটি ঘটে ২৩ জুন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে, ঘিওর বাজারের ‘মানিক কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ নামের একটি দোকানে। দোকানের মালিক আলী আজম মানিক জানান, ওই সময় এক ব্যক্তি তার দোকানে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। পুরো ঘটনা দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয় এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়াকে বিএনপির কর্মী বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে, ২৪ জুন (মঙ্গলবার) ঘিওর উপজেলা বিএনপি এক বিবৃতির মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী মো. ওয়াজেদ আলী (মিস্টার) বিবৃতিতে বলেন, “নাসিম ভূঁইয়া বিএনপির কোনো পর্যায়ের—ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা অঙ্গসংগঠনের—নেতাকর্মী নন। তাকে বিএনপির সঙ্গে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, “দোকানদারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার সময় তার দাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়েছে—এটি কেবল সহিংসতা নয়, ধর্মীয় অনুভূতির ওপরও সরাসরি আঘাত। এ ধরনের ঘটনা ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। আমরা দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”