ঘিওর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক মাটি ভরাটের হুমকি দেওয়ায় প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন অন্তত ২ শত সাধারন কৃষক ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নে কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর পাদদেশে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভূক্তভূগী জমির মালিক ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ গুলজার হোসেন, জমির মালিক সিদ্দিকুর রহমান, নকিমুদ্দিন, মিনাজ উদ্দিন, তামেজ উদ্দিন, আঃ গনি মিয়াসহ অন্যান্য জমির মালিক ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভুমি অধিগ্রহণের টাকার জন্য প্রশাসনের কাছে ঘুরতে ঘুরতে অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত কৃষকরা ক্লান্ত। এরিমধ্যে ঠিকাদারের ইন্ধনে মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল কাদের এলাকার কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অধিগ্রহণের টাকা দেওয়া ছাড়াই জোরপূর্বক মাটি ভরাটের পাঁয়তারা করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
জমির মালিকরা বলেন, অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ করে দ্রুত মাটি ভরাট করুক এতে আমরাও খুশি। তবে অধিগ্রহণের টাকা পাওয়া ছাড়া আবাদি জমি ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, মাটি ভরাটের কাজ আমার নয়, আমার ছেলে সবুজের নামে। এলজিইডি থেকে মাটি ভরাটের কাজ পেয়েছি। এলাকার কোন কৃষককে জোরজবরদস্তি কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রীজ হয়েছে, কিন্তু সংযোগ সড়ক নেই। সেখানে তো সংযোগ সড়ক প্রয়োজন। আর এটি দেখভালের দায়িত্ব এলজিইডির। ইতিমধ্যে ৭ ধারার নোটিশ পেয়েছেন কৃষকরা। দ্রুত টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু কি কারনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হলো- বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, এই সেতুর নির্মাণকাজে ২৯ কোটি টাকা এবং দুই পাশের সংযোগ সড়ক বাবদ ৫ কোটি ৬০ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ মোট ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রায় ৩ বছর আগে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুপাশের সংযোগ সড়কের অভাবে কোন কাজে আসছে না মানুষজনের। দুই পাশে ৬৩০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ৪.৯৬ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু অনেক কৃষকরা ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পাননি।