May 13, 2026, 8:57 pm
শিরোনামঃ
সুশাসন ও আধুনিক নগর গড়ার প্রত্যয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মাসুদ পারভেজ নারায়ণগঞ্জে ৭০ বছর দখলে থাকা জমি জোরকরে বে-দখলের অপচেষ্টা। মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পেলেন এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহেল রানা খন্দকার এমপি এস. এ. জিন্নাহ কবির–এর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পেলেন টিপু সুলতান মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপু জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপুর নাম দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে দায়িত্বে দেখতে চান অনেকেই মানবতার ফেরিওয়ালা মোজাম্মেল মোল্লার উদ্যোগে শিবালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানি ঘিওরে ধানের শীষের বিজয়ে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় ঘিওরে ধানের শীষের বিজয়ে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় মানিকগঞ্জ-১ আসনে জিন্নাহ্ কবিরকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী

পঞ্চগড়ের বিষমিশ্রিত মাছ বাজারে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

Reporter Name

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টার:

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন নদ-নদীতে ক্ষতিকর গ্যাস ট্যাবলেট বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও নদীপাড়ের মানুষ। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন, জীববৈচিত্র ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিষাক্ত এসব মাছ হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।

জানা গেছে, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৫০টি নদ-নদীতে নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, তালমা ও পাথরাজ নদী এই জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব নদীতে পয়া, গচি, মাগুর, শিং, শোল, বৈরালী, চিতল, চিলি, পুঁটি, শাটি প্রভৃতি মাছ পাওয়া যায়, যা পঞ্চগড়বাসীর আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাতের আঁধারে এসব নদীতে গ্যাস ট্যাবলেট বা বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হয়। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ বা মৃত মাছ পানিতে ভেসে ওঠে, এরপর সেগুলো জাল দিয়ে তুলে নেওয়া হয়। মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে।

তেঁতুলিয়ার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাঁটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, “রাতের অন্ধকারে বিষ দিয়ে মাছ মারা হয়, পরদিন সেগুলো স্থানীয় হাটে বিক্রি করা হয়। আমি কয়েকজনকে সতর্ক করেছি, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি।”

পরিবেশ সংস্থা ‘কারিগর’-এর নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, “নদী থেকে প্রতি বছর কয়েকশ টন মাছ উৎপাদিত হয়, যা জেলার আমিষের বড় উৎস। কিন্তু বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। এভাবে মাছ খেলে ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় শাখার সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের বলেন, “নদ-নদীতে বিষ প্রয়োগ ও বোরো আবাদে অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি, কিন্তু এখনো তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম হালিম জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। উপজেলা মৎস্য অফিসকে জানানো হয়েছে। জেলেদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

পঞ্চগড়ের নদ-নদীতে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে, হুমকিতে পড়বে জলজ সম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা