May 13, 2026, 11:04 pm
শিরোনামঃ
সুশাসন ও আধুনিক নগর গড়ার প্রত্যয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মাসুদ পারভেজ নারায়ণগঞ্জে ৭০ বছর দখলে থাকা জমি জোরকরে বে-দখলের অপচেষ্টা। মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পেলেন এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহেল রানা খন্দকার এমপি এস. এ. জিন্নাহ কবির–এর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পেলেন টিপু সুলতান মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপু জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় দীপুর নাম দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে দায়িত্বে দেখতে চান অনেকেই মানবতার ফেরিওয়ালা মোজাম্মেল মোল্লার উদ্যোগে শিবালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশুদ্ধ পানি ঘিওরে ধানের শীষের বিজয়ে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় ঘিওরে ধানের শীষের বিজয়ে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় মানিকগঞ্জ-১ আসনে জিন্নাহ্ কবিরকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী

৫৩ বছরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি বীরাঙ্গনা যোগমায়ার

Reporter Name

 

মোঃ রুহুল আমিন শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিকতার স্মৃতি মনে পড়লে এখনো আঁতকে ওঠেন শরীয়তপুরের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন যোগমায়া মালো। ৫৩ বছর ধরে শরীর ও মনের ক্ষত বয়ে বেড়ালেও এখনও তিনি অন্যের আশ্রয়ে থাকেন। মাথা গোঁজার মতো ছোট্ট একটি ঘরও নেই তার। শেষ জীবনে একটি ঘরের আশ্বাস বারবার তাকে দেওয়া হলেও এখনও সেই ঘর পাননি তিনি।

সম্প্রতি শরীয়তপুরের নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার সংবাদের প্রতিবেদকের।

যোগমায়া মালো, তার পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১৫ বছরের কিশোরী গৃহবধু ছিলেন যোগমায়া মালো। একাত্তরের সেই ভয়াবহ সময়ের ২২ মে শরীয়তপুরের মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়ার হিন্দু বাড়িঘরে তান্ডব চালায় পাকিস্তানি সেনারা। হামলার দিন তার স্বামী নেপাল চন্দ্র মালো গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। কিশোরী গৃহবধু যোগমায়া মালো একা বাড়িতে থাকায় অন্যদের সঙ্গে পালাতে সাহস করেননি। বাড়িতে একা পেয়ে রাজাকার ও পাক বাহিনী তাকে ঘর থেকে জোর করে নিয়ে যায় মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলে। তার সঙ্গে নেওয়া হয় আরও ৩০-৩৫ জন নারীকে। সেখানে পাঁচদিন নির্যাতন সহ্য করার পর ছাড়া পায় যোগমায়া মালো। পরে মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে করতে বাড়িতে এসে স্বামীকে খুঁজে পান তিনি। একাত্তরে পাক বাহিনী ও রাজাকাররা তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে পড়লেও পাক বাহিনীর নির্যাতন এখনও তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার একটি ছোট্ট টিনের ঘরে ভাড়া থাকেন। ভাড়াও ঠিক বলা যায় না, বাড়ির মালিক দয়া করে ছেলে, পুত্রবধু, নাতিসহ যোগমায়া মালোকে আশ্রয় দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাওয়ার পরে যোগমায়া মালোকে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে যোগমায়া সেখানে থাকতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তাকে জানানো হয়, নিজস্ব জমি থাকলে বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ছেলে অশোক মালো ও উত্তম মালো পেশায় জেলে। ঋণ করে তারা তিন বছর আগে মায়ের নামে ৪ শতাংশ জমি কিনেছেন একটি ঘর পাবেন বলে। কিন্তু বয়সের ভারে নুয়ে পড়া যোগমায়া মালো সেই ঘর পাননি এখনও। মৃত্যুর আগে যদি মাথা গোঁজার একটি ঘর পেতেন তাহলে নিজের ঘরে বসে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারতেন বাঙালি জাতির এই শ্রেষ্ঠ মা।

যোগমায়া মালোর পুত্রবধু ডলি মালো বলেন, অসুস্থ হলে নাওয়া-খাওয়া সবই করে দিতে হয় আমাকে। কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আমার শ্বাশুড়ি। তখন ঢাকা নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রায়ই বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ থাকেন। সরকার যদি বেঁচে থাকতে তাকে ঘরটি দিতো তাহলে তিনি ঘরটা দেখে যেতে পারতেন।

যোগমায়া মালোর ছেলে অশোক চন্দ্র মালো বলেন, পাকিস্তানি মিলিটারি আমাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পরে আর নিজের ঘরে মাথা গোজার ঠাই হয়নি। এখন টিনের একটি ছোট্ট ঘরে ভাড়া থাকি আমরা, বাড়ির মালিককে মাঝে মধ্যে ভাড়া দেই, আবার কখনো কখনো দিতে পাড়ি না। খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন যায় আমাদের। মা বেঁচে থাকতে যদি সরকার বীর নিবাস তৈরী করে দিতো, তাহলে মাকে নিয়ে থাকতে পারতাম।

বীরাঙ্গনা বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগমায়া মালো বলেন, আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এই জন্য আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাক বাহিনী। ঘর বাড়ি সব পুড়িয়ে দিয়েছিল। আমাকে অপমান করেছিল। নির্যাতন করেছিল। আমার থাকার মতো কোনো ঘর নেই। ছোট একটি ঘরে ছেলে, বউ, নাতি নিয়ে থাকি। সরকার আমাকে ঘর দিবে বলে আমার ছেলেরা খুব কষ্ট করে আমাকে জমি কিনে দিয়েছে। ৩ থেকে ৪ বছর ধরে শুধু বলছে ঘর দিবে, কিন্তু এখনও ঘর দেয় নাই। বয়স হয়েছে, কখন মরে যাই জানি না। বেঁচে থাকতে যদি একটি ঘর পেতাম তাহলে নিজের ঘরে বসে মরতে পারতাম।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ শিকদার বলেন, সদর উপজেলার বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যোগমায়া মালো অন্যতম একজন। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার গেজেট প্রকাশ হয়েছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন তাকে একটি বীর নিবাস তৈরী করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনও ঘরটি তিনি পাননি। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগমায়া মালো ঘরটি পায়, তাহলে বাকি জীবন তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে পার করতে পারবেন।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাইনউদ্দিন বলেন, বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা যোগমায়া মালো। তাকে এখনও বীর নিবাস দেওয়া যায়নি, কারণ তার নামে জমি ছিল না। তবে জানতে পেরেছি এখন তার নামে জমি রয়েছে। তার নামে থাকা জমির নথিপত্র আমাদের কাছে তিনি দিয়েছেন। পরবর্তী ধাপে আমরা তাকে একটি বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি তার যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা