মোঃ রুহুল আমিন: শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
দেশে ইলিশের ঘাটতি মেটাতে জাটকা ইলিশ নিধন নিষিদ্ধ করছে সরকার। জাটকা নিধন নিষিদ্ধকালীন সময়ে নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি থাকে বেশ কড়াকড়ি। কিন্তু সকলের নজরদারি এড়িয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গরীব জেলেদের দাদন দিয়ে জাটকা ধরতে বাধ্য করে। এসব জাটকা মাছ নদী পথ পাড়ি দিচ্ছিলো বরিশাল থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্য।
এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাছগুলো জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেছে নৌপুলিশ।
শনিবার (২২৩ মার্চ) সকাল ৭ টায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের পাশে সাতঁপাড়া এলাকা থেকে মাছগুলো জব্দ করেছে নরসিংহপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস টিম।
নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ মে পর্যন্ত জাটকা ইলিশ মাছ নিধন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এসময় জাটকা ইলিশ নিধন, বিক্রি, সংরক্ষণ, পরিবহন, মজুত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়৷ কিন্তু বেশি লাভের আশায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গরীব জেলেদের লোভ দেখিয়ে দাদন দিয়ে থাকে। দাদনের ঋণ শোধ করতে জেলেরা এসময় জাটকা ইলিশ নিধন করে। শনিবার সকালে সখিপুরের নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা দুই নৌকা দিয়ে ৪শত কেজি জাটকা ইলিশ ইলিশ নিয়ে নদী পথে মাদারীপুর বিক্রির উদ্দেশ্য যাচ্ছিল
পরে নৌ পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ৪০০ শত কেজি জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করে। অভিযানের সময় মাছ ব্যবসায়ী ৬ জনকে আটক করে। দুইজন অপ্রাপ্তবয়স থাকায় তাদেরকে গার্জিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এবং ৪ জনকে নিয়মিত
মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এবং আটককৃত জাটকা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংসহ কয়েকটি এতিমখানায় মাছগুলো বিতরণ করে দেওয়া হয়।
এবিষয়ে নরসিংহপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যম কে বলেন, গোপনের সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি বরিশাল থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে দুটি নৌকা করে অসাদু ব্যবসায়ীরা ৪০০শত কেজি জাটকা মাছ আসছে। এমন সংবাদের ভিক্তিতে গোসাঁইহাটের পাশে সাতঁ পাড়া এলাকায় আসলে অভিযান পরিচালনা করে দুটি বহন কারী নৌকাসহ মাছগুলো জব্দ করেছি। যার বাজার মুল্য ৮০,০০০ আশি, হাজার টাকা, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত ৬ জনকে আটক করি, এবং আটককৃতদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়সি দুজন থাকায় তাদের গার্জিয়ানদের কাছে হস্তান্তর করি। বাকি চার জনকে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছি। জাটকা গুলো বিভিন্ন এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে, তবে আমাদের জাকটা ইলিশ মাছ নিধন বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।