মোঃ রুহুল আমিন : শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
ধান কাটার সময় হিসেবে রাতের বেলাকে বেছে নিয়েছেন কৃষকেরা
অতিরিক্ত গরমে দিনের বেলা অসুস্থতার ভয়ে চাষিরা খেতের পাকা ধান কাটতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ধান কাটার সময় হিসেবে রাতের বেলাকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। দিনে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বাসায় থাকছেন, আর রাতে চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন চাষিরা।
এমন দৃশ্য দেখা গেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর কাশাভোগ এলাকায়। এদিকে, এই সমস্যা সমাধানে সরকারের দেওয়া কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা কৃষি বিভাগ।
ধানচাষীরা জানান, সারা দেশে তীব্র প্রবাহ চলছে। এর প্রভাব পড়েছে শরীয়তপুরে ধানচাষিদের মাঝেও। অধিকাংশ জমিতে গত এক সপ্তাহ যাবত জেলার বোরোধান পাকা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে দিনের বেলা হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ভয়ে ধান কাটতে পারছেন না তাঁরা। তাই রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ধান কাটতে হচ্ছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর কাশাভোগ এলাকার ধানচাষিদের। এই অতিরিক্ত গরমে শ্রমিক না পেয়ে নিজেরাই নিজেদের জমির ধান কাটছেন তাঁরা। যতদিন চাঁদের আলো থাকবে, ততদিন এভাবে ধান কাটবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে দুলছে সোনালী ধান। অধিকাংশ জমির ধান এখন পেকেছে।
জেলা কৃষিবিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমিতে বোরোধানের আবাদ করা হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন। আর গত বছর জেলায় বোরোধানের আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৬ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরোধানের উৎপাদন বেড়েছে এক হাজার ৭২১ মেট্রিক টন। তবে চলতি বছরে একটানা চলা তীব্র গরমে ধানের উৎপাদনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।
চাষি মিজান শিকদার বলেন, ‘৮০ শতাংশ জমিতে আমি বোরো ধানের চাষ করেছি। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় অনেকটা খুশি। তবে বিপাকে পড়েছি ধান পাকার পর। তীব্র গরমে দিনের বেলা ধান কাটতে রাজি হচ্ছে না শ্রমিকেরা। পরে সিদ্ধান্ত নেই নিজেরাই রাতে চাঁদের আলোয় ধান কাটার। তাই আমরা চারজন চাষি ধান কাটা শুরু করি। রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত আমরা ধান কাটি।’
স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন-, তীব্র গরমের কারণে জেলায় এই প্রথম রাতে চাঁদের আলোয় চাষিদের ধান কাটতে দেখা গেছে। কৃষি বিভাগ চাষিদের সহযোগিতায় এগিয়ে আশা উচিত।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান বলেন, প্রচন্ড গরমে আমাদের কৃষকদের দিনের বেলা ধান কাটা খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। যারা এই গরমে মাঠে কাজ করবেন তাদের প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করার পাশাপাশি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে।
কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কিছু কিছু কৃষক রাতে চাঁদের আলোয় ধান কাটছে। সেক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো কম্বাইন হার্ভেস্টার দেওয়া হয়েছে। এই কম্বাইন হার্ভেস্টার যদি ব্যবহার করে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে তারা ধান কাটতে পারবেন। ধান কাটার যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতি থেকেও বাঁচবেন। পাশাপাশি কৃষকেরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুক্ত থাকবেন।’